[gtranslate]

খাগড়াছড়িতে কৃষিতে উপকারী নভেল বেসিলাস ব্যাক্টেরিয়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ

প্রকাশিতঃ ৪:৪১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১


দীন মোহাম্মদ দীনু

কৃষিতে নভেল বেসিলাস এর ব্যবহার নিয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দেবার লক্ষে এবার নতুনভাবে যোগ হলো উপকারী নভেল বেসিলাস ব্যাক্টেরিয়া। ব্যাক্টেরিয়ার নাম শুনলেই মানুষ আগে ভয় পেতো, এখন আর ভয় নয়, বন্ধু হিসেবে বেসিলাস ব্যাক্টেরিয়াকে গ্রহন করা যাবে, আর মানুষের সাথে যার মিল সবচেয়ে বেশি। মিলের সাদৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি হতে শতকরা ৭৬ ভাগ উপকারি ব্যাক্টেরিয়া সংগ্রহ করা যাবে উদ্ভাবনীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে। এমনটিই জানালেন কৃষি গবেষকরা। আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি রোজ শনিবার পাহাডী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, খাগড়াছড়িতে হাতে কলমে বেসিলাস ব্যাক্টেরিয়ার ব্যবহার ও প্রয়োগ নিয়ে এক ব্যতিক্রম ধরনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রসারণ কর্মী, গবেষণা সহকারী, সমাজ কর্মী, শিক্ষক মন্ডলী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং এনজিও প্রতিনিধিদের নিয়ে উক্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সভাপতিত্বে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেকের উপস্থাপনায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফিরোজা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক পরিচালক প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ ড. মো. আশরাফ হোসেন। প্রধান গবেষক ও উর্ধবতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং কর্মসুচি পরিচালক ড.মু. তোফাজ্জল হোসেন রনি প্রশিক্ষণের মুল প্রবন্ধ তুলে ধরেন। প্রশিক্ষক হিসেবে অনলাইন এ আরো অংশনেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. খলিলুর রহমান ভূঁইয়া, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইকবাল ফারুক।
প্রধান অতিথি ড. খাতুন বলেন, উপকারী বেসিলাস ব্যাক্টেরিয়াগুলো শক্তিশালি পেপ্টাইডোগ্লাইকোন এর মাধ্যমে প্রতিকুল অবস্থায় গাছকে খাদ্যরস গ্রহণে সহয়তা করে শক্তিশালি করে এবং এন্টাগনাস্টিক হিসেবে কাজ করে যার ফলে জীবাণুরা অবস্থান করতে পারেনা। ফলে গাছ আর ঢলে পড়ে না।


ড. আশরাফ বলেন, নভেল বেসিলাস এর প্রয়োগ একটি নতুন বিষয় যার উপর আরো জোড়ালো গবেষণা করতে হবে। ড. মুন্সী বলেন, সারা দেশ ব্যাপী পরিবেশ বান্ধব নভেল বেসিলাস কৃষকের কাছে সহজ ভাবে পৌছে দিতে হবে যা বিশ্বের বহুদেশ করে যাচ্ছে, তবে পরে হলেও আমরা শুরু করেছি। প্রধান আলোচক ড. হোসেন বলেন, ব্যাক্টেরিয়ার সাথে প্রাণীকুলের মধ্যে মানুষের সাথে সবচেয়ে বেশি মিল যা শতকরা ৩৭ ভাগ যেখানে বানরের সাথে মাত্র ৬ ভাগ। সুতরাং বন্ধুপ্রিয় মিলের সাদৃশ্যকে কেন্দ্র করে অঞ্চল ভিত্তিক এই গবেষণার কার্যক্রম আরো বাড়াতে হবে। গেল বছরের ফলাফল খুবই ভাল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশে বড় আকারে বায়ো-সেন্টার করে এ ধরনের কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর ফলেই ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রতিবেশি বহু দেশেই আজ বায়োফার্মোন্টারের মাধ্যমে এই কাজ চলছে, আমাদের দেশে তা এখনও গড়ে ওঠেনি। সুতরাং বিষমুক্ত কৃষির জন্য কৃষিবিদদের আজ ভাবতে হবে।

ব্যাক্টেরিয়ার জীবন ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, কালচার, নামকরণ এবং কৃষিতে উপকারী বেসিলাস এর ব্যবহার প্রয়োগ এবং ঢলে পড়া রোগ দমন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
পরে সভাপতি ও পাহাডী গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ড. মুন্সী, কর্মসূচি পরিচালক আগুন্তক সম্প্রসারণ কর্মীদের নিয়ে মাঠে বেসিলাস প্রয়োগ করেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে কৌতুহলের সাথে উক্ত প্রশিক্ষণটি সবায় উপভোগ করেন।