[gtranslate]

বাকৃবি গবেষকের সাফল্য দেশী প্রযুক্তিতে পামওয়েল প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন উদ্ভাবন

প্রকাশিতঃ ৬:০৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৭, ২০১৯

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত দেশীয় প্রযুক্তিতে পামওয়েল প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আওয়াল। এতে পামচাষীরা স্বল্প খরচে পামওয়েল উৎপাদন করে অধিক লাভবান হবেন বলে দাবি উদ্ভাবকের।

মঙ্গলবার কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের প্রিশিসন ল্যাবে আয়োজিত এক কর্মশালায় উদ্ভাবক বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৬ লক্ষ মেট্রিক টন পামওয়েল ব্যবহৃত হয় যার বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ২০১১ সাল থেকে সরকারি উদ্যোগে পাম গাছ থেকে তেল পাওয়ার জন্য ২০ লক্ষ পামওয়েল চারা রোপণ করা হয়েছিল। এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সিলেট, দিনাজপুর, পার্বত্য অঞ্চলেও প্রচুর পামগাছ লাগানো হয়। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানীকৃত মেশিনের দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ কৃষকের পক্ষে তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ করা সম্ভব ছিল না। ফলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতেন এবং পাম চাষের আগ্রহও হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘ ৮ বছরের প্রচেষ্টায় তিনি যন্ত্রটি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন।

উদ্ভাবক আরোও বলেন, যন্ত্রটি আবিষ্কার করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। কারণ মেশিনের একটু এদিক সেদিক হলে তেল প্রক্রিয়াজাতকরণে অনেক সমস্যা হত। প্রথমে অটোক্যাডে মেশিনের ফ্রি ডিজাইন করেছি। মেশিনের জন্য ভালো মানের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করেছি, যাতে মেশিনটি টেকসই হয়। পামওয়েলের ব্যাঞ্চ কাটা থেকে ক্রুড ওয়েল তৈরি করতে যত কম সময় লাগে, ততই তেলের উৎপাদন বেশি হয়। সারাদেশে যন্ত্রটি পৌঁছাতে পারলে দেশের বাইরে থেকে পামওয়েল আমদানী তো বন্ধ হবেই এমনকি বিদেশেও রপ্তানীর সুযোগ তৈরি হবে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পরিত্যক্ত সমুদ্র অঞ্চলে ও পাবর্ত্য অঞ্চলের পরিত্যক্ত জমিতে পাম গাছ রোপন করা গেলে পামওয়েলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মস্থানও হবে বলে মনে করেন এই উদ্ভাবক।


শাহরিয়ার আমিন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
০১৭৬৬ ৪১১৯৪৬