[gtranslate]

২০মে হতে ২৩জুলাই পর্যন্ত ৬৫দিন সামুদ্রিক মৎস্যআহরণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ: ৬৭ হাজার সামুদ্রিক মৎস্যযানকে মৎস্যআহরণে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিতঃ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | মে ১৭, ২০১৯

তথ্যবিবরণীঃ ঢাকা, ১৫ মে, ২০১৯:
২০১৫ সালের ২০ মে জারীকৃত নিষেধাজ্ঞার আওতায় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিবছর ২০মে হতে ২৩জুলাই পর্যন্ত একটানা ৬৫দিন পর্যন্ত সকলপ্রকার যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মৎস্যনৌযানের মৎস্য ও ক্রাস্টিশিয়ান্স (চিংড়ি, লবস্টার, কাটলফিশ ইত্যাদি) আহরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ রয়েছে। এসময় সামদ্রিক মাছসমূহের প্রজনকাল হওয়ায় ডিমওয়ালা মাছের নিরাপদ পরিবেশসৃষ্টিসহ মাছের মজুদসংরক্ষণ, সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মত সহনশীল আহরণনিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা বলবত করা হয়েছে।

কিন্তু দেশের এই একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৫৫টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের মৎস্যআহরণ বন্ধের ব্যাপারটি নিশ্চিত করা গেলেও ৬৭ হাজার আর্টিসনাল অর্থাৎ যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মৎস্যযান এই নিষাধাজ্ঞা শতভাগ প্রতিপালন করছে না। সেজন্য স্থলভাগের মৎস্যযান ও ট্রলারসহ সমুদ্রে ভাসমান যানসমূহকে মাছধরা থেকে বিরত রাখতে মৎস্য ও পাণিসম্পদমন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতিগ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, ৩২ সহস্রাধিক যান্ত্রিক মৎস্যযান সমুদ্রে মাছধরায় জড়িত থাকলেও এদের মধ্যে মাত্র ৫,৪০০টি মৎস্যযান বৈধ বা নিবন্ধিত থাকায় অবৈধ নৌযানের দৌরাত্ম বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে অযান্ত্রিক নৌযান রয়েছে ৩৪ হাজার ৮১০টি।

উক্ত ৬৫দিন বাংলাদেশী সমুদ্র অঞ্চলে সকলপ্রকার মৎস্য-আহরণকারী নৌযান কর্তৃক মাছ-আহরণ ১০০% বন্ধের কার্যক্রম জোরদার করতে আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক আন্তঃমন্ত্রণালয়সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে নৌপরিবহনমন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, পুলিশ, নৌপুলিশ, র্যা ব, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, মৎস্য অধিদফতর, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি, জাতীয় মতস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইছউল আলম মণ্ডলের সঞ্চালনায় এবং মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয় যে, সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রায় সোয়া চারলাখ মৎস্যজীবী মৎস্যআহরণ করে থাকে। ৬৫দিন মৎস্যআহরণ বন্ধের সময় জাটকানিধনরোধ ও মা-ইলিশসংরক্ষণের আদলে মাছ-আহরণে বিরত জেলেদেরও ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্যসহায়তার পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানানো হয়। এ ব্যাপারে জাটকানিধনরোধের ৮ মাস, মা-ইলিশসংরক্ষণের ২২দিন এবং সামুদ্রিক মৎস্যআহরণ নিষিদ্ধকালীন ৬৫ দিনের জন্য জেলেদের খাদ্যসহায়তায় আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২২৫ কোটিটাকা বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

সভায় ৬৫দিনের উদ্দেশ্য-বাস্তবায়নে এসময় স্থলভাগের বরফকলের বরফ-উৎপাদন এবং সমুদ্রের ভাসমান ফিলিং-স্টেশনগুলো বন্ধের ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করা হয়। অভিযান-সফলের স্বার্থে বিপুলসংখ্যক সামুদ্রিক অনিবন্ধিত ও অবৈধ যান্ত্রিক মৎস্যযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্তণালয়ের প্রতিও অনুরোধ জানানো হয়।